০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬ দশকের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে অস্ট্রেলিয়ার পুর্বাঞ্চল! নিহত ৩, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৫০ হাজার

অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে টানা কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট রেকর্ড বন্যায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আটকে পড়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য।

শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস্টোফার মিনস। তারা দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত জরুরি সেবা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রিমিয়ার মিনস জানান, গত কয়েক দিনে ৬৭৮ জনকে বন্যা পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই ১৭৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। “এটা এক বিশাল ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টা,” বলেন মিনস, “যেখানে অনেক স্বেচ্ছাসেবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্পূর্ণ অজানা মানুষকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের না থাকলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতো।”

প্রবল বর্ষণে মাত্র তিন দিনে যেটুকু বৃষ্টি হয় সাধারণত কয়েক মাসে, তা নেমে এসেছে পূর্বাঞ্চলে। এতে বহু শহর পানিতে থৈ থৈ করছে, সড়কগুলো নদীতে রূপ নিয়েছে, এবং পুরো অঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

গ্রামীণ এলাকাগুলোতে হঠাৎ বন্যায় গবাদি পশু ভেসে গেছে, বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এখন ধ্বংসাবশেষ আর মৃত প্রাণীতে ভরে উঠেছে পরিবেশ।

স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে— বন্যার পানিতে জীবাণু থাকতে পারে, থাকতে পারে ইঁদুর ও বিষধর সাপ; সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগও হতে পারে প্রাণঘাতী। সবাইকে সাবধানে চলাচল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্যার প্রভাব ইতোমধ্যে সিডনি পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণে ঝড়ের গতি আরও তীব্র হয়ে রেল যোগাযোগ ও বিমান চলাচল ব্যাহত করছে। শুক্রবার সকালে সিডনি বিমানবন্দরের দুটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়, ফলে বহু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

এদিকে, সিডনির প্রধান পানির উৎস ওয়ারাগাম্বা বাঁধ ইতোমধ্যে ৯৬ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং যেকোনো সময় উপচে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া যে একের পর এক চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। এমন দুর্যোগ আগামীতেও বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

টিআরসি নিয়োগ কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের প্রস্তুতিমূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।

৬ দশকের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে অস্ট্রেলিয়ার পুর্বাঞ্চল! নিহত ৩, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৫০ হাজার

আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে টানা কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট রেকর্ড বন্যায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আটকে পড়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য।

শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস্টোফার মিনস। তারা দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত জরুরি সেবা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রিমিয়ার মিনস জানান, গত কয়েক দিনে ৬৭৮ জনকে বন্যা পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই ১৭৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। “এটা এক বিশাল ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টা,” বলেন মিনস, “যেখানে অনেক স্বেচ্ছাসেবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্পূর্ণ অজানা মানুষকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের না থাকলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও ভয়াবহ হতো।”

প্রবল বর্ষণে মাত্র তিন দিনে যেটুকু বৃষ্টি হয় সাধারণত কয়েক মাসে, তা নেমে এসেছে পূর্বাঞ্চলে। এতে বহু শহর পানিতে থৈ থৈ করছে, সড়কগুলো নদীতে রূপ নিয়েছে, এবং পুরো অঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

গ্রামীণ এলাকাগুলোতে হঠাৎ বন্যায় গবাদি পশু ভেসে গেছে, বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এখন ধ্বংসাবশেষ আর মৃত প্রাণীতে ভরে উঠেছে পরিবেশ।

স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে— বন্যার পানিতে জীবাণু থাকতে পারে, থাকতে পারে ইঁদুর ও বিষধর সাপ; সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগও হতে পারে প্রাণঘাতী। সবাইকে সাবধানে চলাচল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্যার প্রভাব ইতোমধ্যে সিডনি পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণে ঝড়ের গতি আরও তীব্র হয়ে রেল যোগাযোগ ও বিমান চলাচল ব্যাহত করছে। শুক্রবার সকালে সিডনি বিমানবন্দরের দুটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়, ফলে বহু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

এদিকে, সিডনির প্রধান পানির উৎস ওয়ারাগাম্বা বাঁধ ইতোমধ্যে ৯৬ শতাংশ পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং যেকোনো সময় উপচে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়া যে একের পর এক চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। এমন দুর্যোগ আগামীতেও বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।