০৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় কবি নজরুলের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ সালের ২৫ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণ থাকলেও নজরুল প্রধানত তাঁর বিদ্রোহী কবিতার জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছেন।

শুধু কবিই নন—তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, সংগীতস্রষ্টা ও দার্শনিক। ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’ আর ‘কামাল পাশা’র মতো কবিতাগুলো তাঁর সাহসী ও উদার চিন্তার পরিচয় বহন করে। ১৯২২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়।

শৈশবে দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হন। সংসার চালাতে কখনো মুয়াজ্জিন, কখনো কবির দলে, আবার কখনো রুটি বানানোর কাজ করেছেন। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময়ের অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখায় উঠে এসেছে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের সুরে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কবিকে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে দেওয়া হয় একুশে পদক এবং একই বছর তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বও প্রদান করা হয়।

সেই বছরের ২৯ আগস্ট, কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়, যেন আজান শোনার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মৃত্যুর পরও বজায় থাকে।

নজরুল আজও বেঁচে আছেন তাঁর লেখায়, কণ্ঠে, চেতনায়—জাতির অন্তরে এক অবিনাশী শক্তি হয়ে।

টিআরসি নিয়োগ কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের প্রস্তুতিমূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।

জাতীয় কবি নজরুলের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ মে ২০২৫

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ সালের ২৫ মে, পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় বিচরণ থাকলেও নজরুল প্রধানত তাঁর বিদ্রোহী কবিতার জন্যই স্মরণীয় হয়ে আছেন।

শুধু কবিই নন—তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সাংবাদিক, সংগীতস্রষ্টা ও দার্শনিক। ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’ আর ‘কামাল পাশা’র মতো কবিতাগুলো তাঁর সাহসী ও উদার চিন্তার পরিচয় বহন করে। ১৯২২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রা দেয়।

শৈশবে দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃহীন হন। সংসার চালাতে কখনো মুয়াজ্জিন, কখনো কবির দলে, আবার কখনো রুটি বানানোর কাজ করেছেন। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসময়ের অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখায় উঠে এসেছে প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের সুরে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কবিকে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে দেওয়া হয় একুশে পদক এবং একই বছর তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্বও প্রদান করা হয়।

সেই বছরের ২৯ আগস্ট, কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়, যেন আজান শোনার মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক মৃত্যুর পরও বজায় থাকে।

নজরুল আজও বেঁচে আছেন তাঁর লেখায়, কণ্ঠে, চেতনায়—জাতির অন্তরে এক অবিনাশী শক্তি হয়ে।