দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য ,
‘জীবনের অনুষঙ্গ যুদ্ধ, যুদ্ধের অনুষঙ্গ নতুন জীবন‘এই কথাটির মর্মার্থ আমরা ব্যক্তি জীবনে উপলব্ধি করতে পারি ।মানুষ প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে তবে একেক জনণের সংগ্রাম একেক রকম। তবে মানুষের ব্যক্তি জীবনের কঠিন বাস্তবতাই কখনো কখনো জাতীয় জীবনে সামগ্রিক বাস্তবতায় চলে আসে একটি যুদ্ধ সেই যুদ্ধে জয়ী হতেই হয় জাতীকে বেঁচে থাকার জন্যই ! তেমনি নতুন জীবন আর নতুন স্বপ্নের প্রত্যাশায় একটি যুদ্ধ রক্তের স্রোতের বিনিময়ে অর্জিত একটি বাংলাদেশ! পাকিস্তানি শাসক শ্রেণির শোষণ উৎপীড়ন আর নির্যাতনের হাত থেকে ব্যক্তি মানুষের সংগ্রাম সম্মেলিতভাবে রুপান্তরিত হয় জনযুদ্ধে সাধারণ মানুষ হয় গণযুদ্ধা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টা/১০টার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশে । ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের নানা স্মৃতি হূদয়পটে ভেসে ওঠে ডিসেম্বর মাসে। কারণ, ১৯৭১-এর ডিসেম্বর মাসে সর্বাত্মক জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং আমরা বিজয় অর্জন করি। সেই ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস বিশ্ব মানচিত্রে নতুন স্বাধীন দেশের আর্বিভাব।১৯৭১ সালের ৯ টি মাস দেশে যুদ্ধের দামামা, অদম্য মুক্তিযোদ্ধারা, এ দৃশ্যের বিপরীতে আছে লাশ আর হত্যার মারণযজ্ঞ, এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন! দেশ স্বাধীন হয়েছে একটি বাংলাদেশ পেয়েছি , আজ সেই দেশটি বিজয়ের ৫৩ বছর অতিক্রম করছে। আবেগ আর ভালবাসায় মুক্তিকামী মানুষ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ উদযাপন করছে বিজয় দিবস। তবুও বলে রাখি শুধু আত্মপ্রচারে না থেকে নির্মোহভাবে বিচার বিশ্লেষণ করাই হোক আগামির উজ্জ্বল বাংলাদেশের স্বপ্ন! একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ৫৩ বছর খুব বেশি না হলেও কম কিছু নয় !এই সময়ে দেশ ও জাতি অনেক ঘটন-অঘটন, চড়াই-উৎরাইয়ের সাক্ষী হয়েছে। সময়ে সময়ে এসব ঘটনা সমগ্র জাতিকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়েছে, পাল্টে দিয়েছে এর গতিপথ। তাই এখন ‘বিজয়ের প্রাপ্তির বার্তাটা কেমন সেই প্রশ্ন রাখা আর সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়া নিশ্চই খুব বেশি নয়। উত্তরটা খুঁজতে গেলে যে উত্তরটা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় সেটা হলো জাতী হিসেবে আমরা এখনো মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাস পালন আর রচনায় ঐক্যবদ্ধ হতে পারলাম না। এখনো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানি আমলের ছড়িয়ে দেয়া কুৎসা প্রচার করে এখানে বসবাস করা একদল লোক। স্বাধীনতা ঘোষকের নাম নিয়ে এখনো মিথ্যাচার করে একদল মানুষ। এটি দুঃখজনক, হতাশারও বটে। রাজনৈতিকভাবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শত শত রাজনৈতিক দল থাকবে তাঁদের মতামতও থাকে রাজনৈতিক বিষয়ে মতবিরোধ থাকবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনদেশে বিকৃত ইতিহাস চর্চা করা কিংবা চর্চার সুযোগ দেয় অস্বাভাবিক এটি মানা উচিৎ না। দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কোনো শক্তি থাকবেনা এটা সকল রাজনৈতিক দলের বিজয় মাসের সপথ হোক এমনাটাই প্রত্যাশা। এই সময়েও যদি জাতী হিসেবে আমরা স্বাধীনতা আর বিজয়ের শব্দটি কেবল মুখে মুখে রাখি চেতনার যদি ব্যবস্যা করি তবে আসছে প্রজন্ম কিন্তু ছাড় দেবে না ! মনে রাখা ভাল সভ্যতা এগিয়ে যায় সভ্যতার মতো কারো বেলকিবাজীতে আর তকমাকারী হুমকীর জন্য সভ্যতা কখনো থেমে থাকে নি থেমে থাকবেও না! শুধু সংগ্রামটা করবেন নাকি বেলকীবাজী শুনবেন সেটা অর্থাৎ নায়ক হবেন নাকি খলনায়ক হবেন সেটা রচিত হবে ইতিহাসে !১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল এই সময়ে পৃথিবী অনেক বদলেগেছে এগিয়েগেছে আকাশ সীমানায় !সেই তুলনায় আমাদের এগিয়ে যাওয়াটা এখনো সামন্যই ! জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামিলীগের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল আজ সেই দলের হাত ধরেই অর্থনৈতিক অর্জনে অসামান্য সফলতা আসছে ! পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করার সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ হয়েছে মেট্রোরেল এমন আরো অনেক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছ ! এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনিভাবেই এটাও সত্য যদি দেশ প্রেম জাগ্রত থাকত ( মুক্তিযুদ্ধের আগে যেমন বাঙালিদের নিজস্বতার পক্ষে প্রেম ছিল), যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যেত রাষ্ট্রের সম্পদ যদি ক্ষমতার আশ্রয়ে বিদেশে প্রাচার না হতো, তবে এশিয়ার অনেক দেশকেই ছাড়িয়ে যেত বাংলাদেশ এটা প্রায় সর্ব ক্ষেত্রেই ঘটতে পারতো! কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে! গ্লোবাল নলেজ এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৩৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১১২তম যা উদ্বেগজনক! অন্যদিকে একটি দেশ যা কিছুর উপর ভিত্তি করে ঠিকে থাকে সেই স্বাধীনতার অনেক প্রশ্নের সমাধান এখনো আমরা করতে পানি নাই ! যার ফলে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে এখনো মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোদ্ধ কথা বলছে কেউ কেউ! জুরা-থালি দিয়ে বেশি দিন ঠিকে না সেটা আমরা ভুলে যাই !তাই আজকের দিনে এসেও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলতে হয় স্বাধীনতা বিরুধীরা আস্পালন করছে, স্বধীনতা বিরোধীরা ষড়যন্ত্র করছে ইত্যাদি ! এই বক্তব্যগুলো একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক ,এতোবছর পরেও দেশের সবকয়টি রাজনৈতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হলো না সেটা দুর্ভাগ্যও বটে! মুক্তিযুদ্ধাদের আত্মনিয়োগ ও প্রাণোৎসর্গ করতে যে সকল বিষয়( জাতীয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র,গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) সেই সকল বিষয়ই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান বাহাত্তরের সংবিধানে যুক্ত করেছিলেন যা জাতীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছিল ! আজো সেই সংবিধানেই পারে জাতীর আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে ! সেটাই সকল দলের প্রত্যাশা হোক ! স্বাধীনতার আগে দেশের জনগণ যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিল সেটা ভেঙ্গে গিয়ে জাতী ও সমাজের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা থেকে মুক্তির জন্য আজো ঐক্যবদ্ধভাবেই দেশ বিরুধী জাতীয় সংস্কৃতিবিরোধী সকল অপশক্তিকে মুখাবেলা করে স্বাধাীনতার চেতনায় বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সপথই হোক শতবার্ষিকীর বাংলাদেশের বাস্তবতা ! জয় বাংলা , সকলকে বিজয় শুভেচ্ছা!
লেখক; সম্পাদক ও প্রকাশক ,Bytesunam24
স্টাফ রিপোর্টার 









