দ্বিপাল ভট্টাচার্য :

‘শুভসংঘের ইস্কুলে পড়তে আমার ভাল লাগে,
আমি ওখন পতি দিন ইস্কুলে লেখাপড়া করি’ আদুরে কন্ঠে নিজের মতো করে এই কথাগুলো বলছিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু শিক্ষার্থী নেকবর হোসেন (৬) ইস্কুলে পড়তে পেরে সে যে আনন্দিত সেটা কথা দিয়ে বুঝাতে চায়, কিন্তু সবকিছু প্রকাশ করতে পারছিল না তবে সে যে আনন্দিত এটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল। এমন শত শিশুর মনে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে পরিচালিত বসুন্ধরা শুভসংঘ বিদ্যালয়।
আজ কথা হয় তাহিরপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুভসংঘ বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করা এমন কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে।
বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থ্যায়নে পরিচালিত বসুন্ধরা শুভসংঘ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত
নেকবর হোসেনে’র, সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁর বাবা মোঃ ফজলুর রহমান একজন শ্রমজীবী মানুষ তিনি ইটের ভাটায় কাজ করেন। নেকবরের
৮ ভাই-বোনের মধ্যে ৬ষ্ঠ। সে এখনো কাজ করতে পারে তবে তার ভাইয়ের দিনমজুরের কাজে যায়। পারিবারিক অসচ্ছলতা আর প্রাকৃতিক ঝড়-ঝঞ্ঝাটের মধ্যেই তারা বাসকের বারেকটিলার মাঝের টিলায়।
একটি স্কুল থাকলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আর আসেপাশে কোনো স্কুল না থাকায় নেকবরের পড়াশুনা বন্ধের পথে তার স্কুলে যাওয়া হয়নি বেশ দিন । তবে সে নিয়মিত স্কুলে আসছে বন্ধ থাকা স্কুলটি বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে আবার চালু হয়েছে। এই শিশু শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসতে চায় পড়তে চায়।
বন্ধ থাকা বিদ্যালয়টি বসুন্ধরা শুভসংঘ গত ৬ মাস ধরে পরিচালনা করছে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে উৎসাহিত করছে।
শনিবার(১৮ নভেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্ত ঘেঁষা অবস্থান বিদ্যালয়টি গিয়ে এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
এই বিদ্যালয়েরই আরেক শিশু শিক্ষার্থী জাহিদুল মিয়া (৬)। সেও পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় বারেকটিলায় বসবাস করে। তার পিতা শফিকুল মিয়া মটর সাইকেল চালক ( ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে)
জাহিদুলের তিন ভাই-বোনের মধ্যে সেই বড়।
কথা বলে জানা যায় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা তাদের। এই কারণেই লেখা পড়া করা কঠিন হয়ে পরেছিল তার।
তবে শুভসংঘের স্কুলটি চালু হওয়ায় পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি করা হলে এলাকার আরো অনেকই উপকৃত হবে।
বারেকটিলার পাশেই অবস্থিত মাহারাম বরগোফ টিলায় বসবাস আরেক এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছামাদুল মিয়া(৬) তাঁর পিতা মোঃ হোসেন মিয়া কোনো কাজ করেন না।তারা ৪ ভাই ও ২ বোন, বড় দুই ভাই যাদুকাটা নদীতে কাজ করেন। ছামাদুল জানাল ‘আমি আমার বন্ধুদের সাথে স্কুলে এসে পড়া শুনা করে খুব ভাল লাগে। এই স্কুলে আমাদের বই দেয়া হয়েছে বিনামূল্যে। আরও খাতা,কলম,স্কুল ড্রেস ও জুতা দিবে বলে জানিয়েছেন। এই গুলো পেলে আমার আর পড়াশোনা করা করতে সমস্যা হবে না।’

খোঁজ- খবর নিয়ে জানা যায়,উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের একটি দুর্গম অঞ্চল বারেকটিলা । ৫ শত বসতিতে প্রায় ৩ হাজার লোক বাস করেন এখানে।
দুই হাজার ৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় কোনো স্কুল না থাকায় বসুন্ধরা গ্রুপ গত ৬ মাস ধরে স্কুল চালাচ্ছে। এতে করে এই এলাকার শিশুরা লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। বসুন্ধরা গ্রুপের পরিকল্পনা রয়েছে স্কুলটি বড় করার।
শুভসংঘ এর পরিচালক জাকারিয়া জামান জানান,’বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশনায় দেশে সুবিধা বঞ্চিত অঞ্চল আছে যেখানে স্কুল নেই সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বারেকটিলায় একটি স্কুল করেছি শিশুরা লেখা পড়া করছে। বেশীর ভাগ আদিবাসীদের সন্তানসহ অনেক সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা আছে এলাকাটিতে। আশেপাশে লেখা পড়া করার জন্য কোনো স্কুল ছিলই না। একটি স্কুল ছিল মাঝে স্কুলটি বন্ধ ছিল। আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে স্কুলটি নতুন করে চালু করেছি। শিশুরা লেখা পড়া করছে। এই বিদ্যালয়টিতে ৬৮ জন শিশু লেখা পড়া করছে। জানুয়ারিতে শতাধিক ছেলে মেয়ে লেখা পড়া করবে এবং স্কুলটিকে আরও বড় করা যায় কিনা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা করব। আমরা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে বই,খাতা,কলম ও স্কুল ড্রেস জুতো সবেই দিব।
শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে পরিচালিত বসুন্ধরা শুভসংঘ বিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিন্মবিত্ত পরিবারের শিশুরা লেখা-পড়ার সুযোগ পেয়ে উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত হবে। তাঁদের দাবি স্কুলটিতে যেন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা যায় সেই দিকে যেন বসুন্ধরা গ্রুপ সহ সংশ্লিষ্ট সকলের ভূমিকা রাখা উচিৎ।
বাইট/সজীব/সুনাম-২০২৩
স্টাফ রিপোর্টার 










