০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওড় পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন

মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুনামগঞ্জ

‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’

দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য,সুনামগঞ্জ।

ড়কপথে রাজধানী ঢাকা থেকে ২৯৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সুনামগঞ্জ। ১৮৭৭ সালে মহকুমা সৃষ্টি হওয়া সুনামগঞ্জ জেলায় রূপান্তরিত হয় ১৯৮৪ সালে। জেলা হিসেবে যে ধরণের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা না হওয়ায় এখনো নানান কারণে এটি বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক জেলা। প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জ যার ১২ টি উপজেলার মধ্যে সবকয়টি উপজেলাই হাওড় ব্যাষ্টিত আর এই জন্যই অনেকেই এই জেলাকে হাওড়ের রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে হাওড়-নদী আর সীমান্তবর্তী পাহাড়ের সৌন্দর্যের কারণে কেউ কেউ একে হাওড় কন্যা হিসেবেও সম্বোধন করে থাকেন।স্বাধীনতার ৫২ বছরে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হলেও এই কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই জেলায় তৈরি হয়েছে বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি হাওড় পাড়ের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে উন্নয়নের চমকপ্রদ তথ্য হলো হাওরাঞ্চলের এই জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এখন দৃশ্যমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

হাওড় পাড়ে গৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই মেডিকেল কলেজ যাকে এই অঞ্চলের মানুষ আখ্যায়িত করছেন হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হিসেবে। আর যার কারিগরতে এমন দৃশ্যমান উন্নয়ন তিনি এই অঞ্চলেরই সন্তান ও বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘সুনামগঞ্জ তথা হাওরাঞ্চলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে পারে এটি এক সময় কেউ কল্পনাও করতে পারতো না । কিন্তু তা আজ বাস্তব।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে খুবই আন্তরিক, যখনি জেলার কোনো পরিকল্পনার কথা বলি তখনি তিনি সম্মতি দিয়ে দেন। আমার আজ খুব গর্ব হচ্ছে হাওরাঞ্চলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ছবি: বাইট

উল্লেখ্য, এই সরকারের আমলে শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুমোদন হওয়া দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, নীলফামারী, নোয়াগাঁও, চাঁদপুর ও নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজসহ মোট ৭টির মধ্যে সবার আগে সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং নিজস্ব ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু করেছে ‘সুনামগঞ্জের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’। যা হাওড় বাসীর জন্য বাড়তি আনন্দ অনুভূতির কারণ। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জরুরি আটতলা একাডেমিক ভবনে গত রবিবার (৫নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুনামগঞ্জ নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে উল্লেখিত বাকি ছয়টি মেডিকেল কলেজগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনো নির্মাণই হয়নি। সুনামগঞ্জের আগে অনুমোদন হওয়া হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমিই নির্ধারণ করা হয়নি আজো। নেত্রকোণায় একাডেমিক ভবনের বরাদ্দ পেলেও সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের বরাদ্দ বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। সবকিছু মিলিয়ে বলাই যায় প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের মানুষ সত্যি ভাগ্যবান। ইতিমধ্যেই কলেজকে কেন্দ্র নতুন স্বপ্ন বুনা শুরু করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেডিকেল কলেজটি স্থানীয় মানুষজনের মানোন্নয়নের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সচেতন মহলের। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ(অবঃ) রজত কান্তি সোম বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়েছে এটি সত্যি অসাধারণ এক অনুভূতি। এই কলেজটি জেলা সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এমনটাই বিশ্বাস করি। তবে এখানে গুরুত্বসহকারে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে এই কলেজে আমাদের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য অবশ্যই স্থানীয় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখতে হবে ।বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে, প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে এই মেডিকেল কলেজে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না।”

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌকির আহামেদ সজীব বলেন , ‘হাওড়পাড়ের শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ ব্যবস্থা ,পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি নানান কারণে পড়াশুনায় পিছিয়ে আছে ,তাই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে আমাদের হাওড়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য হাওড় কোটা রাখার দাবি জানাই’ । তথ্যসূত্রে জানা যায়, মেডিকেলের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের কাজও ষাট ভাগ শেষ হয়েছে। অত্যাধুনিক এই ভবনে ১০টি লিফট ও একটি বেইজমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, আছে ছয়তলা বিশিষ্ট ডরমিটরি ভবনে ৭২ জন নার্সের আবাসনের ব্যবস্থাও। একই রকমের আরেকটি ভবনে হাসপাতালে কর্মরত ৯৮ জন মহিলা স্টাফের আবাসন ব্যবস্থাও হবে। আটতলা বিশিষ্ট আরেক ভবনে নার্সিংয়ে অধ্যয়ন করবে এমন ৪৫০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে ছয়তলা বিশিষ্ট নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবন হচ্ছে। আটতলা বিশিষ্ট আরও দুইটি ভবনের প্রতিটিতে আলাদা আলাদা করে ৪২০ জন করে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাঁচতলার একটি ভবনে প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টরের বাসভবন করা হচ্ছে। ছয়তলা বিশিষ্ট দুইটি ডরমিটরিতে আলাদা আলাদা করে ১৪০ জন করে ডাক্তারের আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনে ১৪০ জন ডাক্তারের আবাসন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে এই ভবনে। দুইতলা বিশিষ্ট জিমনেশিয়াম, দুইতলা বিশিষ্ট লন্ডি ভবন, চারতলার মসজিদ ও ৭৩০ আসনের অডিটরিয়াম করা হচ্ছে এখানে। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন,’অন্য ভবনগুলোর কাজও ৬৫ ভাগ শেষ। তিনি জানান, নতুন হওয়া মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে আগে ক্যাম্পাস নির্মিত হচ্ছে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের। একাডেমিক ভবনের কাজ ৯৫ ভাগ শেষ হওয়ায় অস্থায়ী ক্যম্পাস থেকে রবিবার(৫ নভেম্বর) নতুন একাডেমিক ভবনে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের কার্যক্রম শুরু করেছে’। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে তিন বছর আগে থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা হয়। ৫০ জন করে প্রতিবছর এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতাল ভবনে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে আসছিল গেল তিন বছরের কার্যক্রম। বর্তমানে মেডিকেল কলেজটিতে ১০টি বিভাগ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর মৌজায় ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ সুনামগঞ্জের জন্য সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে মদনপুর-দিরাই সড়কের উভয়পাশেই মদনপুর পয়েন্ট এলাকায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে শুরু হয় মেডিকেল কলেজের স্থাপনার নির্মাণকাজ। দৃশ্যমান নিমার্ণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জের ক্যাম্পাসে খেলার মাঠ এবং পুকুরও থাকবে। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনোজিৎ মজুমদার বললেন, ‘তিনটি সেশনের শিক্ষার্থীকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান করানো হয়েছে। আগামী সেশন থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। বড় এবং নান্দনিক ক্যাম্পাসে আগ্রহভরে আসবে নতুন শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রচেষ্ঠায় ও মাননীয় পরিকল্পানা মন্ত্রীর তৎপরতায় আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন একাডেমিক ভবনে কার্যক্রম শুরু করতে করেছি। এজন্য সুনামগঞ্জ জেলাবাসী ও বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালাক ডা. শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রকল্পটির মোট ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত রয়েছে। আশা করছি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুরো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পারবো। ২০২৫ সালের প্রথম দিকেই মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে উপস্থিত হয়ে, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সুনামগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরঞ্চলের মানুষের জন্য যা করেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। সুনামগঞ্জবাসী এই সরকারকে ভুলে গেলে চলবে না, নিশ্চয়ই ভুলবে না। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সুনামগঞ্জ এখন আর অবহেলিত নয়। এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সুনামগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা আমার স্বপ্ন ছিলো। আমার সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে। আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে। জ্বালাও পুড়াও করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে বিএনপি কি বুঝাতে চায়? মানুষের ক্ষতি করে যারা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে, তাদেরকে এই দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে’।

বাইট/দ্বিপাল/সুনাম-২০২৩ইং

টেগ :

টিআরসি নিয়োগ কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের প্রস্তুতিমূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।

হাওড় পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৩

‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’

দ্বিপাল ভট্টাচার্য্য,সুনামগঞ্জ।

ড়কপথে রাজধানী ঢাকা থেকে ২৯৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সুনামগঞ্জ। ১৮৭৭ সালে মহকুমা সৃষ্টি হওয়া সুনামগঞ্জ জেলায় রূপান্তরিত হয় ১৯৮৪ সালে। জেলা হিসেবে যে ধরণের উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল তা না হওয়ায় এখনো নানান কারণে এটি বাংলাদেশের একটি প্রান্তিক জেলা। প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জ যার ১২ টি উপজেলার মধ্যে সবকয়টি উপজেলাই হাওড় ব্যাষ্টিত আর এই জন্যই অনেকেই এই জেলাকে হাওড়ের রাজধানী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে হাওড়-নদী আর সীমান্তবর্তী পাহাড়ের সৌন্দর্যের কারণে কেউ কেউ একে হাওড় কন্যা হিসেবেও সম্বোধন করে থাকেন।স্বাধীনতার ৫২ বছরে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হলেও এই কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই জেলায় তৈরি হয়েছে বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি হাওড় পাড়ের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে উন্নয়নের চমকপ্রদ তথ্য হলো হাওরাঞ্চলের এই জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি এখন দৃশ্যমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

হাওড় পাড়ে গৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এই মেডিকেল কলেজ যাকে এই অঞ্চলের মানুষ আখ্যায়িত করছেন হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হিসেবে। আর যার কারিগরতে এমন দৃশ্যমান উন্নয়ন তিনি এই অঞ্চলেরই সন্তান ও বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘সুনামগঞ্জ তথা হাওরাঞ্চলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হতে পারে এটি এক সময় কেউ কল্পনাও করতে পারতো না । কিন্তু তা আজ বাস্তব।’ মন্ত্রী উল্লেখ করেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে খুবই আন্তরিক, যখনি জেলার কোনো পরিকল্পনার কথা বলি তখনি তিনি সম্মতি দিয়ে দেন। আমার আজ খুব গর্ব হচ্ছে হাওরাঞ্চলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ছবি: বাইট

উল্লেখ্য, এই সরকারের আমলে শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় অনুমোদন হওয়া দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, নীলফামারী, নোয়াগাঁও, চাঁদপুর ও নেত্রকোণা মেডিকেল কলেজসহ মোট ৭টির মধ্যে সবার আগে সকল কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং নিজস্ব ক্যাম্পাসে পাঠদান শুরু করেছে ‘সুনামগঞ্জের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’। যা হাওড় বাসীর জন্য বাড়তি আনন্দ অনুভূতির কারণ। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে জরুরি আটতলা একাডেমিক ভবনে গত রবিবার (৫নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুনামগঞ্জ নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে উল্লেখিত বাকি ছয়টি মেডিকেল কলেজগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস এখনো নির্মাণই হয়নি। সুনামগঞ্জের আগে অনুমোদন হওয়া হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জমিই নির্ধারণ করা হয়নি আজো। নেত্রকোণায় একাডেমিক ভবনের বরাদ্দ পেলেও সঙ্গে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের বরাদ্দ বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। সবকিছু মিলিয়ে বলাই যায় প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের মানুষ সত্যি ভাগ্যবান। ইতিমধ্যেই কলেজকে কেন্দ্র নতুন স্বপ্ন বুনা শুরু করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেডিকেল কলেজটি স্থানীয় মানুষজনের মানোন্নয়নের পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সচেতন মহলের। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ(অবঃ) রজত কান্তি সোম বলেছেন, ‘সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়েছে এটি সত্যি অসাধারণ এক অনুভূতি। এই কলেজটি জেলা সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এমনটাই বিশ্বাস করি। তবে এখানে গুরুত্বসহকারে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে এই কলেজে আমাদের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেয়ার জন্য অবশ্যই স্থানীয় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখতে হবে ।বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মানোন্নয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে, প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে এই মেডিকেল কলেজে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না।”

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌকির আহামেদ সজীব বলেন , ‘হাওড়পাড়ের শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ ব্যবস্থা ,পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি নানান কারণে পড়াশুনায় পিছিয়ে আছে ,তাই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে আমাদের হাওড়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য হাওড় কোটা রাখার দাবি জানাই’ । তথ্যসূত্রে জানা যায়, মেডিকেলের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের কাজও ষাট ভাগ শেষ হয়েছে। অত্যাধুনিক এই ভবনে ১০টি লিফট ও একটি বেইজমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, আছে ছয়তলা বিশিষ্ট ডরমিটরি ভবনে ৭২ জন নার্সের আবাসনের ব্যবস্থাও। একই রকমের আরেকটি ভবনে হাসপাতালে কর্মরত ৯৮ জন মহিলা স্টাফের আবাসন ব্যবস্থাও হবে। আটতলা বিশিষ্ট আরেক ভবনে নার্সিংয়ে অধ্যয়ন করবে এমন ৪৫০ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে ছয়তলা বিশিষ্ট নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবন হচ্ছে। আটতলা বিশিষ্ট আরও দুইটি ভবনের প্রতিটিতে আলাদা আলাদা করে ৪২০ জন করে মেডিকেল শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাঁচতলার একটি ভবনে প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টরের বাসভবন করা হচ্ছে। ছয়তলা বিশিষ্ট দুইটি ডরমিটরিতে আলাদা আলাদা করে ১৪০ জন করে ডাক্তারের আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এছাড়া ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনে ১৪০ জন ডাক্তারের আবাসন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে এই ভবনে। দুইতলা বিশিষ্ট জিমনেশিয়াম, দুইতলা বিশিষ্ট লন্ডি ভবন, চারতলার মসজিদ ও ৭৩০ আসনের অডিটরিয়াম করা হচ্ছে এখানে। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন,’অন্য ভবনগুলোর কাজও ৬৫ ভাগ শেষ। তিনি জানান, নতুন হওয়া মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে আগে ক্যাম্পাস নির্মিত হচ্ছে সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের। একাডেমিক ভবনের কাজ ৯৫ ভাগ শেষ হওয়ায় অস্থায়ী ক্যম্পাস থেকে রবিবার(৫ নভেম্বর) নতুন একাডেমিক ভবনে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের কার্যক্রম শুরু করেছে’। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে তিন বছর আগে থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা হয়। ৫০ জন করে প্রতিবছর এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতাল ভবনে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চলে আসছিল গেল তিন বছরের কার্যক্রম। বর্তমানে মেডিকেল কলেজটিতে ১০টি বিভাগ২০ জন শিক্ষক রয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর মৌজায় ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ সুনামগঞ্জের জন্য সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে মদনপুর-দিরাই সড়কের উভয়পাশেই মদনপুর পয়েন্ট এলাকায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে ৩৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরে শুরু হয় মেডিকেল কলেজের স্থাপনার নির্মাণকাজ। দৃশ্যমান নিমার্ণাধীন ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জের ক্যাম্পাসে খেলার মাঠ এবং পুকুরও থাকবে। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মনোজিৎ মজুমদার বললেন, ‘তিনটি সেশনের শিক্ষার্থীকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান করানো হয়েছে। আগামী সেশন থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। বড় এবং নান্দনিক ক্যাম্পাসে আগ্রহভরে আসবে নতুন শিক্ষার্থীরা। সরকারের প্রচেষ্ঠায় ও মাননীয় পরিকল্পানা মন্ত্রীর তৎপরতায় আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন একাডেমিক ভবনে কার্যক্রম শুরু করতে করেছি। এজন্য সুনামগঞ্জ জেলাবাসী ও বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি’। সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালাক ডা. শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রকল্পটির মোট ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনের কাজ প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত রয়েছে। আশা করছি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুরো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পারবো। ২০২৫ সালের প্রথম দিকেই মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে উপস্থিত হয়ে, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সুনামগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরঞ্চলের মানুষের জন্য যা করেছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। সুনামগঞ্জবাসী এই সরকারকে ভুলে গেলে চলবে না, নিশ্চয়ই ভুলবে না। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সুনামগঞ্জ এখন আর অবহেলিত নয়। এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সুনামগঞ্জে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা আমার স্বপ্ন ছিলো। আমার সরকার তা বাস্তবায়ন করেছে। আগামীতে আরও উন্নয়ন হবে। জ্বালাও পুড়াও করে মানুষকে কষ্ট দিয়ে বিএনপি কি বুঝাতে চায়? মানুষের ক্ষতি করে যারা ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে, তাদেরকে এই দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে’।

বাইট/দ্বিপাল/সুনাম-২০২৩ইং