০৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘জোট হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট’ ইস্যুতে দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান

ঢাকা | সমাজ বার্তা ডেস্ক:
নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলোকেও নিজ নিজ প্রতীকে প্রার্থী দিতে হবে—এমন বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২০ নম্বর ধারা সংশোধন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকার এখন সেই সংশোধনী প্রত্যাহারের বিষয়ে ভাবছে। আর এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান।

গত ২৩ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জোট হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট’ নীতিটি অনুমোদন পায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের কাছে প্রার্থীর দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করা। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই সংশোধনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

বিএনপি শুরু থেকেই সংশোধনটির বিরোধিতা করছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ২৫ অক্টোবর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেন, সংশোধনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মতামত ছাড়াই করা হয়েছে এবং এটি জোটভুক্ত দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করেছে।
বিএনপি আগের নিয়ম বহাল রেখে জোটভুক্ত দলগুলোর এক প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার দাবি জানায়।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তিনি বিএনপিকে সংশোধনী প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন, যা সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “আপনি রাষ্ট্রের আইন উপদেষ্টা, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন।”
তিনি সতর্ক করেন, সংশোধনী বাতিল করা হলে ‘প্রক্সি প্রার্থিতা’ বাড়বে, বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হবে এবং প্রকৃত বহুত্ববাদ ক্ষুণ্ণ হবে।

জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সংশোধনী বাতিল করলে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠুতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, বিএনপির নেতা ও সরকারের একজন উপদেষ্টার মধ্যে ‘গোপন সমঝোতা’ থেকেই এই সিদ্ধান্ত আসছে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “কোনো দলকে সুবিধা দিতে আরপিও পরিবর্তন করা রাজনৈতিকভাবে অনৈতিক। এটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ধ্বংস করবে এবং রাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।”

এনসিপির চিঠিতে বলা হয়, আইন উপদেষ্টার বিএনপিকে দেওয়া আশ্বাস সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। যদিও আসিফ নজরুল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই সংশোধনী পরিবর্তনের অর্থ হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নীতিগত অবস্থান নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার কখনো বিএনপির চাপে ডানে, কখনো জামায়াতের চাপে বামে ছুটছে। কিছু দলকে খুশি করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না এলে জনগণের আস্থা হারাবে।”

এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময়সূচি নিয়েও দলগুলোর মধ্যে চলছে মতভেদ। তার সঙ্গে প্রতীক ইস্যু যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনপূর্ব উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সরকার এখন সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।”


টিআরসি নিয়োগ কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের প্রস্তুতিমূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত।

‘জোট হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট’ ইস্যুতে দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা | সমাজ বার্তা ডেস্ক:
নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলোকেও নিজ নিজ প্রতীকে প্রার্থী দিতে হবে—এমন বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২০ নম্বর ধারা সংশোধন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকার এখন সেই সংশোধনী প্রত্যাহারের বিষয়ে ভাবছে। আর এই সম্ভাবনাকে ঘিরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান।

গত ২৩ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জোট হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট’ নীতিটি অনুমোদন পায়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের কাছে প্রার্থীর দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করা। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই সংশোধনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

বিএনপি শুরু থেকেই সংশোধনটির বিরোধিতা করছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ২৫ অক্টোবর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করেন, সংশোধনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মতামত ছাড়াই করা হয়েছে এবং এটি জোটভুক্ত দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করেছে।
বিএনপি আগের নিয়ম বহাল রেখে জোটভুক্ত দলগুলোর এক প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার দাবি জানায়।

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করেছে, তিনি বিএনপিকে সংশোধনী প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছেন, যা সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “আপনি রাষ্ট্রের আইন উপদেষ্টা, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন।”
তিনি সতর্ক করেন, সংশোধনী বাতিল করা হলে ‘প্রক্সি প্রার্থিতা’ বাড়বে, বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হবে এবং প্রকৃত বহুত্ববাদ ক্ষুণ্ণ হবে।

জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সংশোধনী বাতিল করলে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠুতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
তিনি ইঙ্গিত দেন, বিএনপির নেতা ও সরকারের একজন উপদেষ্টার মধ্যে ‘গোপন সমঝোতা’ থেকেই এই সিদ্ধান্ত আসছে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “কোনো দলকে সুবিধা দিতে আরপিও পরিবর্তন করা রাজনৈতিকভাবে অনৈতিক। এটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ধ্বংস করবে এবং রাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।”

এনসিপির চিঠিতে বলা হয়, আইন উপদেষ্টার বিএনপিকে দেওয়া আশ্বাস সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। যদিও আসিফ নজরুল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “অনুমোদনের অল্প সময়ের মধ্যেই সংশোধনী পরিবর্তনের অর্থ হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নীতিগত অবস্থান নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার কখনো বিএনপির চাপে ডানে, কখনো জামায়াতের চাপে বামে ছুটছে। কিছু দলকে খুশি করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না এলে জনগণের আস্থা হারাবে।”

এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময়সূচি নিয়েও দলগুলোর মধ্যে চলছে মতভেদ। তার সঙ্গে প্রতীক ইস্যু যুক্ত হওয়ায় নির্বাচনপূর্ব উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে সরকার এখন সামনে এগোনোর পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।”